ভঙ্গদেশের রঙ্গকথা – ২

(আমার মেয়ের সঙ্গে একটি সত্যিকারের ‘বাবা, গল্প বল’ সেশন এই লেখাটার অনুপ্রেরণা। #Hokkolorob #হোককলরব এর প্রতি আমার আন্তরিক কিন্তু অক্ষম সমর্থন। প্রথম পর্বটা পাবেন এখানে।)

— বাবা, আজ কিন্তু পুরো গল্পটা বলতেই হবে। নইলে যেতে দেব না।

— হ্যাঁ রে, আজ পুরোটাই বলব। কাল কোন অবধি বলেছিলাম যেন?

— ওই যে, দিদি হয়ে গেল দেশের রাণী। কিন্তু তারপর কী হল? আর ওই ভিডিওর দিদিটাকেই বা মারছিল কেন পুলিশকাকুগুলো?

— হুঁ, মনে পড়েছে। ঠিক আছে, তারপর কী হল বল তো? দিদি তো হয়ে গেল রাণী। তাই দেখে সব্বাই কী খুশি! এতদিনে একজন মনের মত মানুষ সিংহাসনে বসেছে। সে আমাদেরই মত গরীব, কিন্তু ভয়ঙ্কর তার সাহস, আর তেমনই সৎ।

— সৎ মানে?

— সৎ মানে ভাল মানুষ — যে মিথ্যে কথা বলেনা, চুরি করেনা, কারুর ক্ষতি করেনা। তা সে রাণী সত্যিই গরীব ছিল, অন্তত লোকে তাই ভাবত। সাহসী তো সে ছিলই। আর কেউ তাকে কোনদিন চুরি চামারি করতেও দেখেনি। রাণী সিংহাসনে বসেই বলল, এতদিন যা হয়েছে তা হয়েছে, কিন্তু এবার আমি সব ঝেঁটিয়ে সাফ করব। আর কোন পেয়াদা গুমখুন করবেনা। কারুর বাড়িতে লেঠেল যাবেনা। সবাই ভালভাবে বাঁচতে পারবে।

Continue reading

ভঙ্গদেশের রঙ্গকথা – ১

(আমার মেয়ের সঙ্গে একটি সত্যিকারের ‘বাবা, গল্প বল’ সেশন এই লেখাটার অনুপ্রেরণা। #Hokkolorob #হোককলরব এর প্রতি আমার আন্তরিক কিন্তু অক্ষম সমর্থন।)

— বাবা, বাবা, ওই লোকদুটো ওই দিদিটাকে মারছে কেন?

— কোথায়? কোন লোকদুটো রে?

— ওই যে, দেখ না। দিদিটা গেট ধরে ঝুলছে, আর ওই দুটো গোঁফওয়ালা লোক দিদিকে ধরে টানছে!

— দেখি তো? আরে, ও লোকগুলো তো পুলিশ রে!

— পুলিশ? কিন্তু বাবা, পুলিশ তো দুষ্টু লোকেদের ধরে। দিদিটা কি খুব দুষ্টু?

— না রে, দুষ্টু তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে পুলিশকাকুগুলো ওকে মারছে কেন বাবা?

— শিবঠাকুরের আপন দেশ তো, তাই আর কি। সবই উল্টোপাল্টা।

— কোন দেশ?

— শিবঠাকুরের দেশ। ওই যে, তোকে ছড়াটা পড়িয়েছিলাম না, আবোল তাবোলের?

— ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সেই যে ছড়া লিখলে খাঁচায় ভরে রাখে, আর পিঠে দমদমাদম লাগায়, তাই না?

— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস।

— দিদিটা কি তাহলে ছড়া লিখেছিল?

— তা লিখে থাকতেও পারে। তবে সেজন্য ওকে মারছে বলে তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে কেন মারছে ওকে?

— সে অনেক লম্বা গল্প রে। তুই বুঝতে পারবিনা।

— না বাবা, বল না! প্লিইইইইজ! আমি শুনব।

— ঠিক আছে, বলতে পারি। কিন্তু তার আগে এখন ইউটিউব বন্ধ। কম্পিউটার বন্ধ। সোজা চোখ বুজে বিছানায়। একটু নড়লেই গল্প বলা বন্ধ হয়ে যাবে।

— এই নাও, চোখ বুজে শুয়ে পড়েছি। এবার বলো। একদম শুরু থেকে।

Continue reading