আর আমার বিশ্বাসে আঘাত লাগেনা বুঝি?

মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। ছবিটা আমি নিয়েছি ধর্মকারী থেকে।

গত কিছুদিনের মধ্যেই দুটো ঘটনা মনটাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়ে গেল। প্রথম ঘটনা হিন্দী ছবি pk বন্ধ করার জন্য হিন্দুত্ববাদীদের মারদাঙ্গা ভাঙচুর। আর দ্বিতীয় ঘটনাটা প্যারিসে। শার্লি এবদো পত্রিকার অফিসে বর্বরোচিত হামলা, যার বলি দশজন নিরস্ত্র সাংবাদিক ও চিত্রশিল্পী। দুটো ঘটনা এক নয়। প্রথমটাতে অন্তত কেউ হতাহত হননি। আর শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে pk সারা বিশ্বে রমরমিয়ে চলছে। মানুষ ভাঙচুরের জবাব দিয়েছেন দলে দলে সিনেমা হলে ভিড় জমিয়ে। লাঠির বদলা সিনেমার টিকিট। মানে একটা সভ্য সমাজে প্রতিবাদ যেরকম ভাবে হওয়া উচিত, মানুষ এই ধর্মের ষাঁড়েদের জবাব দিয়েছেন ঠিক সেইভাবে। দ্বিতীয় ঘটনাটাকে কিন্তু অত সহজভাবে নিতে পারছিনা, কারণ এটার আগাগোড়া রক্তে মাখামাখি।

Continue reading

ক্ষণিকের অতিথি — ২

এটা প্রদীপ্তর সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্ব -এর লিঙ্ক।

আমিঃ তুমি সিনেমার লাইনে কী করে আসলে?

প্রদীপ্তঃ সিনেমা তো দেখতাম ছোটবেলা থেকেই। বাংলা সিনেমা তখন মোটেই ভাল লাগতনা। সাদা কালো ছবি, মধ্যবিত্ত বাড়ি, ছেঁড়া পাঞ্জাবি, ময়লা ব্যাগ নিয়ে বাজার করতে যাচ্ছে। নয়ত গ্রামের দুঃস্থ পরিবারের দুঃখ কষ্টের গল্প। অন্যদিকে হিন্দি সিনেমা দারুণ রংচঙে। বড় বড় বাড়ি, গাড়ি, দারুণ স্টাইল। কত নাচ, গান। হিরো একেবারে রেঁলা নিয়ে থাকে। তখন সিনেমা বানানোর ইচ্ছে হত, আর মনে হত যদি বানাই তো এইরকমই বানাবো। রাজ কাপূর ছিলেন আমার আদর্শ।

Kashish-Mumbai International Queer Film Festival। Programming Director সাগর গুপ্তর সঙ্গে।

Kashish-Mumbai International Queer Film Festival। Programming Director সাগর গুপ্তর সঙ্গে।

ছবি আঁকার সূত্রে স্কুল শেষ করে ঢুকি কলকাতার আর্ট কলেজে। আমার আঁকার মাস্টারমশাই প্রায় জোর করেই ভর্তি করেছিলেন। আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে তো বেরোলাম, এরপর কী? আমার বাবার মতে এতদিনে আমি সবে রঙের মিস্ত্রী হয়েছি, শিল্পী হতে এখনো বহু দেরী। তার কারণও আছে — আর্ট কলেজে ছবি আঁকার টেকনিকটাই মূলত শেখানো হয়, থিওরির ওপর জোর খুব একটা নেই। অথচ থিওরি নিয়ে পড়াশুনো না করে আর্টিস্ট হবার স্বপ্ন দেখা যায়না, অন্তত জিনিয়াস না হলে নয়। স্থির হল যে NIDতে যাব — বাবা, মা দুজনেরই ইচ্ছে। কিন্তু NIDতে কী নিয়ে পড়ব? ছবি আঁকার সঙ্গে তো সিনেমা বানানোর স্বপ্নটাও ছিল। ওটার কী হবে? ঠিক করলাম অ্যানিমেশন নিয়ে পড়াশুনো করব। ছবি আঁকা, সিনেমা করা, দুটোরই বুড়ি ছুঁয়ে রাখলাম।

Continue reading

ক্ষণিকের অতিথি — ১

Pradipto Rayপ্রদীপ্ত রায়ের অনেকগুলো পরিচয়। ও শিল্পী, অ্যানিমেশন আর গ্র্যাফিক নভেল আর্টিস্ট। স্বনামধন্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ডিজাইন (NID), আহমেদাবাদের একজন আংশিক সময়ের অধ্যাপক। ও একজন স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র পরিচালক, যে অদূর ভবিষ্যতে পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র পরিচালনা করার স্বপ্ন দেখে। শুধু স্বপ্ন নয়, রীতিমত পরিকল্পনা চলছে সে প্রোজেক্টের। মূলধারার হিন্দী সিনেমাতে ও অভিনয় করেছে, যেমন অনুরাগ কাশ্যপের Gangs of Wasseypur। সে সব ছাড়াও কিন্তু প্রদীপ্তর একটা পরিচয় আছে, যে পরিচয়ের কারণে ও আমাদের রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজের কাছে, এমনকী তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী সমাজের একাংশের কাছেও, অনেক ক্ষেত্রে ব্রাত্য। ও একজন ট্রান্সজেন্ডার (transgender), বা বাংলায় রূপান্তরকামী। ওর ভাষায় বলতে হলে, ও ছেলের শরীরে আটকে পড়া একটি মেয়ে।

Continue reading

ভঙ্গদেশের রঙ্গকথা – ১

(আমার মেয়ের সঙ্গে একটি সত্যিকারের ‘বাবা, গল্প বল’ সেশন এই লেখাটার অনুপ্রেরণা। #Hokkolorob #হোককলরব এর প্রতি আমার আন্তরিক কিন্তু অক্ষম সমর্থন।)

— বাবা, বাবা, ওই লোকদুটো ওই দিদিটাকে মারছে কেন?

— কোথায়? কোন লোকদুটো রে?

— ওই যে, দেখ না। দিদিটা গেট ধরে ঝুলছে, আর ওই দুটো গোঁফওয়ালা লোক দিদিকে ধরে টানছে!

— দেখি তো? আরে, ও লোকগুলো তো পুলিশ রে!

— পুলিশ? কিন্তু বাবা, পুলিশ তো দুষ্টু লোকেদের ধরে। দিদিটা কি খুব দুষ্টু?

— না রে, দুষ্টু তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে পুলিশকাকুগুলো ওকে মারছে কেন বাবা?

— শিবঠাকুরের আপন দেশ তো, তাই আর কি। সবই উল্টোপাল্টা।

— কোন দেশ?

— শিবঠাকুরের দেশ। ওই যে, তোকে ছড়াটা পড়িয়েছিলাম না, আবোল তাবোলের?

— ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সেই যে ছড়া লিখলে খাঁচায় ভরে রাখে, আর পিঠে দমদমাদম লাগায়, তাই না?

— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস।

— দিদিটা কি তাহলে ছড়া লিখেছিল?

— তা লিখে থাকতেও পারে। তবে সেজন্য ওকে মারছে বলে তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে কেন মারছে ওকে?

— সে অনেক লম্বা গল্প রে। তুই বুঝতে পারবিনা।

— না বাবা, বল না! প্লিইইইইজ! আমি শুনব।

— ঠিক আছে, বলতে পারি। কিন্তু তার আগে এখন ইউটিউব বন্ধ। কম্পিউটার বন্ধ। সোজা চোখ বুজে বিছানায়। একটু নড়লেই গল্প বলা বন্ধ হয়ে যাবে।

— এই নাও, চোখ বুজে শুয়ে পড়েছি। এবার বলো। একদম শুরু থেকে।

Continue reading

মোটরবাইকে লাদাখ ভ্রমণ প্রস্তুতি – কিছু জ্ঞানগর্ভ উপদেশ

এটা গুরুচন্ডা৯-তে লেখা একটা টই থেকে কপি-পেস্ট করা। আলোচনা প্রশ্নোত্তর পর্বগুলো বাদ দিয়েছি। শুধু আমার জ্ঞানদানটাই তুলে ধরলাম এখানে। টেকনিকাল কচকচিতে ভর্তি, তাই নেহাৎ মোটরবাইকে লাদাখ ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান না থাকলে এটা পড়ার প্রয়োজন নেই। টই-তে হারিয়ে যাবে বলে এখানে তুলে রেখে অমরত্ব প্রদান করলাম। 🙂

Continue reading

সরল ধর্ষণ শিক্ষা

— মশায়ের নামটা কী?

— আজ্ঞে অধমের নাম শ্রী পাপোষ মাল।

— বাঃ বাঃ, নামেও মাল, চেহারাটাও বেশ লগনচাঁদ মাল। আপনি তো বেশ মালদার পার্টি দেখছি মশায়!

— এই আপনাদের আশীর্বাদে টু-পাইস করে খাচ্ছি আর কি। …

— তা নামটা কি পিতৃদত্ত?

— আরে দাদা এই বাজারে কি পিতৃদত্ত আলুভাতে নাম নিয়ে চটক দেখানো যায়? বিজ্ঞাপনে সে নাম লিখলে কেউ ফিরে তাকাবে? নিজের নামটা তাই নিজেই ঠিক করতে হয়েছে আর কি …

— জব্বর নাম রেখেছেন মশায়। আপনার বইয়ের নামের সঙ্গে বেশ খাপ খেয়েছে।

— আজ্ঞে যা বলেন। … (সঙ্গে দেঁতো হাসি)

Continue reading

বিরহ

বিবিজান চলে যান লবেজান করে। সৈয়দ মুজতবা আলির মতে (‘দেশে বিদেশে’ দ্রষ্টব্য) এই প্রবাদটির রচয়িতা কোন প্রেমিক। দিওয়ানা না হলে সাধারণ মানুষ খামোখা বিবিজানের বিহনে লবেজান হবেন কেন?

আলি সায়েব ঋষিতুল্য মানুষ। তাঁর কথা যদি সত্যি বলে ধরে নিই, তাহলে মানতেই হয় যে এই বুড়ো বয়সে পৌঁছে আমি প্রলেতারিয়া শ্রমিক শ্রেণী (তা হোক না বুদ্ধি শ্রমিক) থেকে বেমালুম বুর্জোয়া প্রেমিক শ্রেণীতে প্রোমোশন পেয়েছি। প্রলেতারিয়ারা প্রেমিক হতে পারে কিনা সে সম্বন্ধে মার্ক্স সায়েব কী বলেছেন সেটা ঠিক জানিনা। তবে আমাদের গল্প উপন্যাসের প্রেমিকপ্রেমিকাকুল নিতান্তই পাতি বুর্জোয়া। পূর্ণিমা চাঁদের আলোয় মহব্বতের বুলি আওড়ানোটা বুর্জোয়াদের মনোপোলি। প্রলেতারিয়ার কাছে প্রেম হল ঝলসানো রুটি।

স্বাভাবিক নিয়মে এই প্রোমোশনটা পেয়ে দিলখুশ হওয়ার কথা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আমার দিল থেকে খুশি বিলকুল বেপাত্তা। মন আনচান। চিত্তে সুখ নেই।

Continue reading

দ্বিতীয়

১। ১লা ফেব্রুয়ারি সকাল — প্রজাপতি

— ‘বাবা, বাবা! দেখো কী সুন্দর দু’টো প্রজাপতি!’

টুনাইয়ের গলা শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল বিবেক। সত্যিই ঘাসের ওপর ফুরফুর করে উড়ে বেড়াচ্ছে দুটো অপূর্ব সুন্দর প্রজাপতি। হলুদ পাখার ওপর লাল ছোপ ছোপ। হুবহু একই চেহারা দুটোর। টুনাই কিছুক্ষণ তাড়া করে বেড়াল দুটোকে। তারপর একসময় তারা কোথায় উড়ে গেল। টুনাই মেতে গেল অন্য খেলায়।

এ বাড়িটাতে আসা অবধি এই একটা মস্ত লাভ হয়েছে বিবেক আর অর্পিতার। টুনাইয়ের একটা খেলে বেড়াবার জায়গা জুটেছে। বাড়ির চারপাশে বেশ কিছুটা বাগান, তাতে প্রচুর গাছ গাছালি ঝোপ ঝাড়। টুনাই সারাদিন এই ঘাসেই খেলা করে বেড়াচ্ছে, বাড়ির ভেতরে আসার নামও নেয়না। অর্পিতা কিছুটা হাঁফ ছাড়ার ফুরসৎ পেয়েছে তাই। টুনাইয়ের জন্মের পর এই বোধহয় প্রথমবার।

Continue reading

জুলে! — ৭

[ জুলে! — ১ ]
[ জুলে! — ২ ]
[ জুলে! — ৩ ]
[ জুলে! — ৪ ]
[ জুলে! — ৫ ]
[ জুলে! — ৬ ]
আমাদের লাদাখ ভ্রমণের সপ্তকান্ড রামায়ণের ইতি টানছি এই পর্বে।

।। ৭-৮ জুলাই — প্রত্যাবর্তন ।।

প্যাঙ্গং সো থেকে ফেরার পর আরো দিন দুয়েক আমরা ছিলাম লেহ-তে। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি। বাইকদুটো ফেরত দিয়েছি। বাইকওয়ালা তার দুই পাড়ার দাদাকে পাঠিয়ে দিয়েছিল লেহ-তে, বাইক নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাজারের কাছে একটা গলিতে দেখা করে বাইক হস্তান্তর করলাম। বিস্তর চোখা চোখা কথা আর বেঁকা হাসি সহ্য করতে হল, কিন্তু কী আর করা? পাঁকে যখন পড়েছি, তখন দু একটা চামচিকের লাথি সহ্য করা ছাড়া তো গতি নেই। আক্কেল সেলামিও দিতে হল একগাদা। আমাদের সফরের খরচা বেড়ে গেল একলাফে অনেকটা। এটাও মুখ বুজে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। পাড়ার দাদা দুটির চেহারা দেখে বুকে খুব একটা বল ভরসা জাগেনা। বেমক্কা পাঙ্গা নিয়ে নিলে ছোরাছুরি বার করাটা তাদের পক্ষে মোটেই অসম্ভব বলে মনে হলনা। গচ্চাটা দিয়ে মানে মানে সটকে পড়লাম আমরা।

খার্দুং-লা’তে বরফের আইসিকলস।

খার্দুং-লা’তে বরফের আইসিকলস।

এ ছাড়া একটা গাড়িতে কয়েকজনের সঙ্গে শেয়ারে গিয়ে খার্দুং-লা ঘুরে এলাম। বেজায় বরফ আর ততোধিক ঠান্ডা। জীবনে প্রথমবার নিজের চোখে ‘আইসিকল’ দেখলাম খার্দুং-লা তে। কিন্তু এ গল্পের বিশদে যাচ্ছিনা।

Continue reading

জুলে! — ৬

[ জুলে! — ৫ ]

।। ৩রা-৪থা জুলাই — প্যাঙ্গং সো ।।

পরদিন সকালে ন’টা নাগাদ আমরা আবার রওনা দিলাম। বাইকওয়ালা ইতিমধ্যে কিছু জানায়নি, কাজেই বাইক দুটো আরো দিন দুয়েক আমরা রাখতে পারব। এবারের গন্তব্যস্থল লাদাখের অন্যতম প্রধান দ্রষ্টব্য, প্যাঙ্গং সো। মালপত্র সবই মোটামুটি গেস্ট হাউসেই রেখে এসেছি। সঙ্গে শুধু দুদিন চালানোর মতো জামাকাপড় আর বাইকের যন্ত্রপাতি।

সো শব্দের অর্থ হ্রদ। প্যাঙ্গং একটি সুবিশাল নোনা জলের হ্রদ। লম্বায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। চওড়া অবশ্য খুব একটা বেশি নয়, সব থেকে চওড়া অংশ আন্দাজ পাঁচ কিলোমিটার । হ্রদের অধিকাংশটাই (প্রায় ৯০ কিলোমিটার) চীনের মধ্যে পড়ে। লেহ থেকে প্রায় ঘন্টা পাঁচেকের রাস্তা, সঠিক দূরত্বটা ভুলে গেছি। উপশী হাইওয়ে ধরে শে ছাড়িয়ে কিছুদূর গিয়ে কারু বলে একটা জায়গা পড়ে, সেখান থেকে বাঁ দিকে ঘুরতে হয়। এরপর মাঠের মধ্যে দিয়ে এঁকা বেঁকা সরু পথ। রাস্তার অবস্থা খুবই ভাল, খানা খোঁদল চোখে পড়েনা বললেই চলে। মাঠ আবার সমতল নয়, উঁচু নিচু ঢেউ খেলানো। সেই ঢেউয়ের মাঝে রাস্তা যায় হারিয়ে। কোন দিকে যে সে চলেছে, দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। মনে হয় এরপর বুঝি আর রাস্তাই নেই। এদিকটাতে প্রচুর গাছ গাছালি, ক্ষেত খামার আছে। চারিদিক সবুজে সবুজ। সেই ঢেউ খেলানো প্যাঁচালো রাস্তা দিয়ে আমরা দুলকি চালে চারিদিকের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চললাম।

Continue reading