ভঙ্গদেশের রঙ্গকথা – ১

(আমার মেয়ের সঙ্গে একটি সত্যিকারের ‘বাবা, গল্প বল’ সেশন এই লেখাটার অনুপ্রেরণা। #Hokkolorob #হোককলরব এর প্রতি আমার আন্তরিক কিন্তু অক্ষম সমর্থন।)

— বাবা, বাবা, ওই লোকদুটো ওই দিদিটাকে মারছে কেন?

— কোথায়? কোন লোকদুটো রে?

— ওই যে, দেখ না। দিদিটা গেট ধরে ঝুলছে, আর ওই দুটো গোঁফওয়ালা লোক দিদিকে ধরে টানছে!

— দেখি তো? আরে, ও লোকগুলো তো পুলিশ রে!

— পুলিশ? কিন্তু বাবা, পুলিশ তো দুষ্টু লোকেদের ধরে। দিদিটা কি খুব দুষ্টু?

— না রে, দুষ্টু তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে পুলিশকাকুগুলো ওকে মারছে কেন বাবা?

— শিবঠাকুরের আপন দেশ তো, তাই আর কি। সবই উল্টোপাল্টা।

— কোন দেশ?

— শিবঠাকুরের দেশ। ওই যে, তোকে ছড়াটা পড়িয়েছিলাম না, আবোল তাবোলের?

— ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সেই যে ছড়া লিখলে খাঁচায় ভরে রাখে, আর পিঠে দমদমাদম লাগায়, তাই না?

— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস।

— দিদিটা কি তাহলে ছড়া লিখেছিল?

— তা লিখে থাকতেও পারে। তবে সেজন্য ওকে মারছে বলে তো মনে হচ্ছেনা।

— তাহলে কেন মারছে ওকে?

— সে অনেক লম্বা গল্প রে। তুই বুঝতে পারবিনা।

— না বাবা, বল না! প্লিইইইইজ! আমি শুনব।

— ঠিক আছে, বলতে পারি। কিন্তু তার আগে এখন ইউটিউব বন্ধ। কম্পিউটার বন্ধ। সোজা চোখ বুজে বিছানায়। একটু নড়লেই গল্প বলা বন্ধ হয়ে যাবে।

— এই নাও, চোখ বুজে শুয়ে পড়েছি। এবার বলো। একদম শুরু থেকে।

— বেশ, বলছি। শুরু থেকেই বলছি। অনেক অনেক দিন আগের কথা। একবার হয়েছে কি, কতগুলো সাদা রঙের অসুর নিজের দেশ ছেড়ে আরেক দেশে এসে বাসা বেঁধেছিল।

— নিজের দেশ ছেড়ে এসেছিল কেন বাবা? দুর্গা মা তাড়িয়ে দিয়েছিল ওদের?

— তাই হবে বোধহয়। সে যাই হোক, অসুরগুলো ছিল ভয়ানক পাজি, ভারি দুষ্টু। দেশের লোকেরা অসুরগুলোর সঙ্গে যুদ্ধু করে এঁটে উঠতে পারলনা। তাদের হারিয়ে দিয়ে অসুরগুলো সে দেশেই রাজত্ব করতে লাগল। এক আধ দিন নয়, পাক্কা দুশো বছর।

— বাবা, দুশো বছর কি অনেক বেশি?

— হ্যাঁ, অনেক বেশি। তা সেই দুশো বছর পরে মা দুর্গার খেয়াল হল যে আরে! এ ব্যাটারা তো বেশ জমিয়ে রাজত্ব করছে, আমারই দেশে, আমারই নাকের ডগায়! রেগেমেগে মা দিলেন এক জব্বর ঠেলা। অসুরগুলো তল্পিতল্পা গুটিয়ে সে দেশ থেকে পালাল।

— তারপর?

— অসুরগুলো যাওয়ার আগে একটা ভারি শয়তানি করে গেল। আস্ত দেশটাকে ভেঙে দুটুকরো করে গেল।

— ভেঙে দিল! কি দুষ্টু!

— হ্যাঁ, ভারি দুষ্টু। আর সেই ভাঙা থেকেই যত ঝামেলার শুরু।

— কিন্তু বাবা, ভাঙল তো কী হয়েছে? ফেবিকল দিয়ে আবার জোড়া লাগানো গেল না? তখন কি ফেবিকল ছিলনা?

— ফেবিকল নিশ্চয়ই ছিল, আর না থাকলেও অন্য আঠা তো ছিলই। তবে কি জানিস, সে দেশের লোকগুলো ছিল এত বড় বোকা, যে দেশটা আর জোড়া লাগাতে পারলনা। ভাঙা দেশ ভাঙাই রয়ে গেল। সেই থেকে সে দেশের নাম হল ভঙ্গদেশ।

— ভ-ং-গ দেশ। ভারি শক্ত নাম, না?

— ভঙ্গ মানে হল ভাঙা। ভাঙা দেশ তো, তাই ওই নাম।

— ভাঙার পর কি হল?

— সে এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার, বুঝলি? ভাঙার সময় কেউ লক্ষ্য করেনি, যেখান দিয়ে ইচ্ছে ছুরি চালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সবকিছু শান্ত হয়ে যাবার পর দেখেশুনে সবার মাথায় হাত!

— কেন? কী হয়েছিল?

— কী হয়েছিল জানিস? ভাঙা টাঙা হয়ে যাবার পরে সবাই দেখে যে রান্নার উনুন রয়েছে এক পারে, আর ভাতের হাঁড়ি রয়ে গেছে অন্যপারে। যার উনুন, সে উনুন জ্বালিয়ে বসে আছে, চালের দেখা নেই। যার চাল, তার রান্না করার উনুন নেই। ব্যস! দুজনেরই উপোস!

— তাই?

— শুধু কি তাই? এমন আরও কত কী! ধানক্ষেত রয়েছে ওপারে, ধান ভাঙার ঢেঁকি রয়েছে এপারে। পুকুর এপারে তো মাছ ধরার জাল ওপারে। সে এক তুলকালাম কান্ড।

— তারপর কী হল বাবা?

— তারপর আর কী। সব কেঁচে গন্ডুষ করতে হল। মানে সব আবার গোড়া থেকে শুরু করতে হল দুপারেই। নতুন করে উনুন বানানো হল, মাছ ধরার জাল তৈরি হল। কিন্তু তাড়াহুড়োর কাজ তো, ভাল করে হলনা। চাল ফোটার আগেই হাঁড়ি যেত ফেটে, মাছের দল কুট করে জাল কেটে পালিয়ে যেত। তাই সেই দু দেশের লোকই খেতে না পেয়ে মহা খাপ্পা হয়ে গেল।

— তাই?

— খেপবে না? তুইই বল! আশেপাশের দেশের লোক খেয়েদেয়ে পেটমোটা হয়ে গেল। এমনকী এ দেশেরই লোক, যারা হাঁড়ি, উনুন, জাল এসব বানাতো, তারাও খেয়ে খেয়ে মুটিয়ে গেল। কিন্তু বাকি সবার পেটে কিল, উপোস! এটা কি সহ্য হয়?

— না খেলে তো আমার পেট ব্যথা করে!

— ঠিক। দেশের বেশিরভাগ লোকেরই সেই পেট ব্যথা শুরু হল। তারা বলল, আর এসব চলবেনা। আমারই দেশে বসে আমাদের ক্ষেতের ধান খেয়ে অন্য লোকে মোটা হবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব, ইয়ার্কি নাকি? দেশের রাজার নাকের ডগাতেই এসব বদমায়েশি চলছে। তার মানে রাজা ব্যাটাই নিশ্চয়ই এর মূলে। তাড়াও ব্যাটাকে!

— তারপর? যুদ্ধ হল বুঝি?

— হ্যাঁ। ভয়ানক যুদ্ধ। সে যুদ্ধে রাজার সৈন্যরা গেল হেরে। তখন সবাই মিলে লাঠি সোঁটা নিয়ে হাজির হল রাজপ্রাসাদে। রাজাকে দুদ্দুর করে তাড়িয়ে দিল দেশের বাইরে। পেটমোটা লোকগুলোও লাঠির ভয়ে এদিক সেদিকে লুকিয়ে পড়ল। সবাই তখন দেশের লোকেদের মধ্যেই একজনকে রাজা বানিয়ে বসিয়ে দিল সিংহাসনে।

— কি মজা! নতুন রাজা! কিন্তু এটা কোন পারে হল বাবা? এপারে না ওপারে?

— ধরে নে এপারে। আসলে দুই পারের গল্পই মোটামুটি এক। শুধু জায়গাটা আর লোকগুলো আলাদা। তা সে যাই হোক, নতুন রাজা লোকটা খুব চালাক ছিল। সিংহাসনে বসেই বুঝল যে লোকে যতদিন খুশি আছে ততদিনই রাজত্ব। খেপে গেলে ওর দশাও সেই আগের রাজার মতই হবে। তাই সে বুদ্ধি করে বলল, — ভাই সকল, আমি রাজা নামেই। আমাদের এ দেশে আমরা সবাই রাজা।

— আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে …

— হ্যাঁ। ঠিক সেই গানটার মতই। রাজার কথা শুনে সবাই ধন্য ধন্য করে উঠল। সে রাজার নাম হল গরীবরাজা!

— কেন বাবা, রাজা খুব গরীব ছিল বুঝি?

— এক সময় হয়তো ছিল। কিন্তু রাজা হওয়ার পর কি আর কেউ গরীব থাকে রে? তার তখন হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া, ট্যাঁকশালে টাকা, সে টাকা চুরি করার জন্য টুনটুনি পাখি, — স-ব ছিল।

— তাহলে ওরকম নাম ছিল যে?

— নাম হল শুধু লোককে বোকা বানানোর জন্য। লোকে ভাবল, আহা রে, রাজাটাও আমাদেরই মত গরীব। তখন নিজেদের কষ্টটা একটু কম মনে হত হয়ত।

— বুঝতে পারছিনা বাবা।

— তুই এখন বুঝবিনা রে। শুধু ধরে নে, নামে গরীবরাজা হওয়াতে দেশের বোকা লোকগুলো তাকে খুব ভালবাসত।

— আচ্ছা, ঠিক আছে। তারপর?

— শুধু বোকারা নয়, ওই গরীবরাজা নামের টানে দলে দলে সত্যিকারের লেখাপড়া জানা লোকেরাও তার দলে গিয়ে ভিড়ল। টিচার, সায়েন্টিস্ট, গল্পলেখক, সব্বাই। লোকটা এমন চালাক ছিল যে দুনিয়াশুদ্ধ লোককে বোকা বানিয়ে দিল।

— দারুণ বুদ্ধি তো!

— হ্যাঁ, দারুণ বুদ্ধি। এদিকে হয়েছে কি, রাজা বদলেছে, কিন্তু দেশের অবস্থা তো বদলায়নি। এখনো লোকে খেতে পায়না। সেই পেটমোটাগুলো, যারা লাঠির ভয়ে পালিয়েছিল, তারাও এদিক ওদিক থেকে উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে। লোকে দেখছে এসব, কেউ কেউ প্রশ্নও করছে এক আধটা। কিন্তু রাজার দলে যে সব বুদ্ধিমান লোকেরা ছিল, তারা এমন ভুজুং দিচ্ছে যে বোকাগুলোর সব গুলিয়ে গিয়ে একেবারে ভোম্বল! প্রশ্নটা যে গোড়ায় কী ছিল, তাই ভুলে গেছে বেমালুম। তাই আবার সব চুপচাপ, কেউ আর টুঁ শব্দটি করেনা। রাজা বলল, আমাদের এ দেশ হল শান্তির দেশ। সেই বুদ্ধিমানেরা ছাড়াও ছিল রাজার পেয়াদাবাহিনী। তারা সারা রাজ্যে ঘুরে ঘুরে দেখত, কেউ কোন বেয়াড়া শব্দ করছে কিনা। করলেই ব্যস! সোজা গুমঘরে। তার আর টিকির দেখা পাওয়া যেতনা কোথাও। শান্তির দেশে চাদ্দিকে শুধুই শান্তি।

— তারপর? সে লোকটাই কি রাজা হয়ে গেল চিরকালের জন্য?

— না রে। চিরকাল কি কেউ রাজা থাকে? একদিন না একদিন সিংহাসন থেকে নামতেই হয়। একেও একদিন তাড়া খেয়ে পালাতে হয়েছিল।

— কী করে? কী করে?

— তাহলে শোন। যতই বুদ্ধিমান হওনা কেন, এক আধটা ভুল সবাই করে। রাজাও করল। রাজার একদিন মনে খেয়াল জাগল যে দেশের বাচ্চাগুলো ধুলোকাদা নিয়ে খেলা করে, ওদের জন্য একটা খেলনা গাড়ির কারখানা বানালে কেমন হয়? যেমন চিন্তা তেমন কাজ। সেই পেটমোটাদের এক ব্যাটা বলল আমি খুব ভাল খেলনা তৈরি করতে পারি। রাজা বলল, বেশ। তুমিই বানাও কারখানা। রাজবাড়ির পাশেই একটা ধানক্ষেত ছিল। ঠিক হল সেখানেই কারখানা তৈরি হবে। রাজা পেয়াদা পাঠিয়ে দিল জমির মালিকের কাছে। বলল, এই নাও নগদ টাকা। জমি ছেড়ে দাও।

— চাষিটা কি চলে গেল ওখান থেকে?

— না রে, সে এক মজার ব্যাপার। চাষি হাতজোড় করে বলল, — রাজামশাই, টাকা আমার চাইনা। কিন্তু এ আমার চোদ্দপুরুষের জমি, এ ছাড়তে পারবনা। লোকটাকে একটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাবা বাছা করে বললে সে হয়ত রাজিই হয়ে যেত। রাজি হলে হয়ত তার ভালও হত। কিন্তু রাজা সে পথ দিয়েই গেলনা। উল্টে লোকটার কথা শুনে রাজা রেগে কাঁই! চাষা ব্যাটা বলে কী? এতবড় আস্পদ্দা! আমার দেশে থেকে আমার সঙ্গেই মামদোবাজি!

— মামদোবাজি মানে কী বাবা?

— উফফফ, গল্পটা বলতে দিবি? মামদোবাজি মানে হল বদমায়েশি। তো রাজা বলল যে আমি দেশের বাচ্চাদের ভালর জন্য খেলনার কারখানা বানাচ্ছি। বাচ্চারা দুটো খেলনা নিয়ে খুশি থাকবে। কত লোক সেই কারখানায় কাজ করে দুটো খেতে পাবে! আর এ ব্যাটা বোকা চাষা কিনা তাতেই বাগড়া দেয়? ভারি অন্যায়! লোকটাকে উচিত শিক্ষা দিতে হচ্ছে!

— কি শিক্ষা দিল?

— রাজা চাষির বাড়িতে লেঠেল পাঠিয়ে দিল।

— লেঠেল কাকে বলে বাবা?

— লেঠেল মানে যারা লাঠি নিয়ে গুন্ডামি করে। ওই যে সেই কবিতাটা মনে নেই? হাতে লাঠি, মাথায় ঝাঁকড়া চুল, কানে তাদের গোঁজা জবার ফুল। এরা তারাই।

— লেঠেলরা কী করল?

— ওরা গিয়ে চাষিটার ঘরে আগুন দিয়ে দিল। ওর ক্ষেতের ধান চুরি করে নিয়ে গেল।

— ইশশশ! কি দুষ্টু, কি দুষ্টু!

— আর এদিকে রাজা দিকে দিকে রটিয়ে দিল যে ওই চাষি ছিল শয়তানের দলের লোক। ওকে শিক্ষা দেওয়ার দরকার পড়েছিল। অনেকে সেটা বিশ্বাসও করে নিল।

— কি বোকা, না বাবা?

— হ্যাঁ, ভারি বোকা। ওই চাষির ছেলে ওদিকে জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে সেখান থেকেই লেঠেলদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগল। কিন্তু কতক্ষণ আর পারে? শেষে লেঠেলরা তাকে ধরে ফেলে এক লাঠির বাড়িতে তার মাথা ফাটিয়ে দিল।

— তারপর?

— রাজা মহা খুশি হয়ে বলল, বেশ হয়েছে। উচিৎ শিক্ষা হয়েছে। যেমন কর্ম তেমন ফল। সবাই সে কথা শুনে ঘাড় নেড়ে বলল, ঠিক, ঠিক। বটেই তো। কিন্তু জানিস, এক একটা লোক থাকে এমন বেয়াড়া যে কিছুতেই সহজ কথাটা বুঝতে চায়না। খালি প্রশ্ন করে। সেই ছেলেটার একটা দিদি ছিল। সে ছিল ঠিক ওইরকম। ভারি ডাকাবুকো।

— এটা কি ওই ভিডিওর দিদিটা, বাবা?

— না, এটা অন্য দিদি। তারপর শোন গল্পটা। একদিন হয়েছে কি, রাজা তো ছেলেটার মাথা ফাটানোর আনন্দে মিছিল করে বেরিয়েছে। রাস্তার দুধারে লোকে দাঁড়িয়ে, সবাই ধন্য ধন্য করছে। হঠাৎ সেই দিদিটা চেঁচিয়ে বলে উঠল, — ওরে রাজা, তোর কাপড় কোথায়?

— কেন বাবা? রাজার কি জামা কাপড় ছিলনা? সেই অন্য গল্পটার রাজার মত?

— সেটাই তো মজা রে! রাজার কাপড় ছিল এক সময়। কিন্তু যতই রাজা মিথ্যে কথা বলেছে, যত সাধারণ লোককে গুমঘরে পাঠিয়েছে, ছেলেদের মাথা ফাটিয়েছে, একটা একটা করে রাজার কাপড় গেছে খসে। খসতে খসতে এখন একেবারে ন্যাংটা। কেউ কিন্তু কিচ্ছুটি টের পায়নি। সবার চোখে ঠুলি আঁটা ছিল। দিদি যেই বলেছে রাজা তোর কাপড় কোথায়, অমনি দেশসুদ্ধু লোকের চোখের ঠুলি খসে পড়ল। সবাই চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে, ও মা! সত্যিই তো! রাজা তো ন্যাংটা! ব্যস! তারপরেই হয়ে গেল।

— কী হয়ে গেল বাবা?

— ন্যাংটা হয়েও রাজা কিন্তু লজ্জা পেলনা। সে বলল, ন্যাংটা হয়েছি তো বেশ করেছি। কিন্তু লোকে রেগে আগুন হয়ে গেল। ভাবল, কী? রাজাটা এতদিন ধরে আমাদের বোকা বানিয়েছে আর দুষ্টুমি করেছে, আমাদেরই মেরেছে, আমাদেরই ক্ষেতের ধান চুরি করেছে? চলবে না! তাড়াও একে! দিকে দিকে আগুন জ্বলে উঠল, লেগে গেল ভয়ানক যুদ্ধ। একদিকে রাজার সৈন্য সামন্ত পেয়াদা লেঠেল, আর অন্যদিকে সেই দিদি আর দেশের মানুষ। মারমার কাটকাট ব্যাপার। আঠারো দিন ধরে চলল সেই লড়াই। লড়াই শেষ হলে দেখা গেল রাজার দল হেরে ভূত হয়ে গেছে। রাজাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সবাই তখন সেই দিদিকেই সিংহাসনে বসাল। এতদিন সে ছিল দিদি, এবার হল রাণী।

— তারপর?

— তারপর আজ আর নয়। অনেক রাত হয়ে গেছে। কাল বলব।

— না বাবা, গল্পটা তো শেষ হলনা। ওই দিদিটাকে পুলিশ মারছিল কেন সেটাও তো বললে না।

— বলব, বলব। কিন্তু আজ ঘুমিয়ে পড়, লক্ষ্মী সোনা। কাল নিশ্চয়ই বলব।

— প্রমিস?

— প্রমিস! এবার ঘুমো। গুড নাইট। সুইট ড্রিমস।

— গুড নাইট, বাবা।

Advertisements

6 thoughts on “ভঙ্গদেশের রঙ্গকথা – ১

    • ভাল লেগেছে শুনে খুব খুশি হলাম। তবে আসল উদ্দেশ্যটা হল কলরবটাকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দেওয়া। সেটা করতে ভুলবেননা যেন। 🙂 #হোককলরব !

  1. dese jadi garib na thake,,boka na thake chasi na thake majurr na thake–ta hole e aami jakhon neta hobo takhon kader netritto debo–aaj jara mara mari kori sakolei to ki6u fakote paoar jannei–takhon dada 6ilo ekhon didi elen

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s