রামধনু — ২

এই প্রবন্ধের প্রথম ভাগ পোস্ট করেছি আগে। এটা দ্বিতীয় ভাগ।

এই পোস্টে আমরা শীর্ষ আদালতের রায়ের বিষয়ে কিছু আলোচনা করব। মাননীয় বিচারপতিদ্বয় জি এস সিঙ্গভি ও এস জে মুখোপাধ্যায় ১১ই ডিসেম্বর ২০১৩-র রায়ে জানিয়েছেন যে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অসাংবিধানিক নয়। সংসদ চাইলে আইন পরিবর্তন করে এই ধারাটি রদ করতে পারে। হয়ত সেটা করার সময়ও উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ সেটা না করা হচ্ছে, ততক্ষণ এ ধারাটি বলবৎ থাকবে। এই রায়ের মাধ্যমে দিল্লী হাই কোর্টের ২০০৯ সালের রায়কে (যাতে ৩৭৭ ধারাকে ক্ষেত্রবিশেষে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল) নাকচ করা হল। এর বিরুদ্ধে একটি রিভিউ পিটিশন করা হয়, কিন্তু শীর্ষ আদালত সেটাও নাকচ করেন ২৮শে জানুয়ারি ২০১৪-তে।

এই রায় স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বাদী পক্ষ এবং সমাজের রক্ষণশীল অংশ (যাঁদের মধ্যে কিছু নামজাদা রাজনীতিকও আছেন) এই রায়ে উৎফুল্ল। অন্যদিকে ভিন্ন যৌনতার মানুষ, এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরা মর্মাহত। তাঁরা মনে করছেন যে এই রায় তাঁদের সুস্থ ভাবে নিজেদের মত করে বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিল। এই দুদলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যাঁরা জড়িত নন, তাঁরা কী বলছেন?

দেশের দু’টি বহুলপ্রচারিত সংবাদপত্র, বিশেষ করে তাদের সম্পাদকীয় স্তম্ভ ও প্রবন্ধগুলি আমি নিয়মিত পড়ে থাকি। একটি হচ্ছে ‘দ্য হিন্দু’, এবং অন্যটি আনন্দবাজার পত্রিকা। এই দুই কাগজের সম্পাদক এ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। দ্য হিন্দু-র বক্তব্য — এ রায় সম্পূর্ণ পশ্চাদমুখী (“A retrograde decision”)। এর মাধ্যমে যে সংসদের কোর্টে বল ঠেলে দেওয়া হল, এটা শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক অন্যান্য রায়ের সঙ্গে খাপ খায়না। বরঞ্চ সাম্প্রতিক অতীতে শীর্ষ আদালত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধানের মৌলিক অধিকারসমূহের নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করে তাদের ব্যপ্তি বিস্তৃত করেছেন, যেমন শিক্ষার অধিকার, সম্মানজনক কাজের অধিকার, ইত্যাদি। অনেক সময়ই এটা করা হয়েছে শাসনবিভাগের ব্যর্থতার মোকাবিলা করতে ও অন্ততঃ কিছু ক্ষেত্রে শাসনবিভাগের চূঢ়ান্ত আপত্তি থাকা সত্ত্বেও। তাহলে এ ক্ষেত্রে, শাসনবিভাগের প্রত্যক্ষ আপত্তি না থাকলেও, এই আত্মসম্বরণ কেন? বিশেষ করে যখন বেশ কিছু মানুষের সুস্থভাবে জীবনযাপন করার অধিকার খর্ব হতে পারে এর মাধ্যমে?

আনন্দবাজার পত্রিকার দৃষ্টিভঙ্গী এর প্রায় সম্পূর্ণ বিপরীত। আনন্দবাজারের ঘোষিত সম্পাদকীয় নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। গণতন্ত্রের যে তিনটি স্তম্ভ — শাসনবিভাগ, আইনবিভাগ ও বিচারবিভাগ — এদের কাজ করা উচিত নিজেদের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে। তারা যদি সেই গন্ডীর বাইরে পদক্ষেপ করে একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করে, সেটা কিছু তাৎক্ষণিক বাহবা কুড়োতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে ক্ষতি গণতন্ত্রেরই। তাই সাম্প্রতিক অতীতে আদালতের কিছু রায়কে বিচারবিভাগীয় অতিসক্রিয়তা আখ্যা দিতে সংকোচ করেনি আনন্দবাজার। ১১ই ডিসেম্বরের রায়কে সেই একই যুক্তিতে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটা ‘সংযমের ইতিহাস’, ‘স্বাধিকারবোধের ইতিহাস’। যতই অকর্মণ্য হোক, আইন প্রণয়ন আইনবিভাগের কাজ। এতে হস্তক্ষেপ করা আদালতের কাজ নয়। সেটা ৩৭৭ ধারার মত একুশে আইনের ক্ষেত্রেও সত্যি। অতীতের অতিসক্রিয়তার ভুল সংশোধনের পথে প্রথম পদক্ষেপ এই রায়।

দ্য হিন্দু-র মতামত দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতেরই প্রতিফলন বলা যেতে পারে। অপরদিকে, প্রগতিশীলদের মধ্যে অনেকেই আনন্দবাজারের মতের বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে খড়্গহস্ত হবেন। কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে বোঝা যাবে যে এর যুক্তি নেহাৎ ফেলনা নয়। সংবিধানের প্রণেতারা অনেক ভেবেচিন্তেই এই তিন স্তম্ভের গন্ডিগুলি এঁকেছিলেন। বিচারবিভাগীয় অতিসক্রিয়তা একটি বহুচর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে গত কয়েক বছরে। এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, এবং তার ফলস্বরূপ আদালতের ধমকও খেয়েছেন তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আমাদের মত সাধারণ মানুষের (মানে আইন ও সংবিধান সম্বন্ধে যাঁদের জ্ঞান সীমিত) মনেও খটকা জাগিয়েছে। যেমন, উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য বিলিব্যবস্থার নীতি ঠিক করা কি আদালতের কাজ? নাকি অভয়ারণ্যের মধ্যে ছিপ ফেলে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাটা মাননীয় বিচারপতিদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে? এই প্রবণতাটা চলতে থাকলে একদিন হয়ত দেখা যাবে বাজেটে কার ওপর কত শতাংশ আয়কর ধার্য করা যাবে, বা কোন পণ্যের ওপর ভর্তুকি দেওয়া যাবে, বা কোন জেলায় ক’টা পুলিশ থানা থাকবে, সেসব নিয়েও আদালতের নির্দেশ আসতে শুরু করেছে। তথাকথিত অন্যায় বা অব্যবস্থার চটজলদি প্রতিকার চান যাঁরা, তাঁরা হয়ত খুশি হবেন এতে (‘দিয়েছে এক হুকুমে চোর ব্যাটাদের শায়েস্তা করে!’), কিন্তু সে অবস্থাটাকে আর যাই হোক গণতন্ত্র বলা যায়না, কারণ গণতন্ত্রে জনগণ (এবং তাদের প্রতিনিধিরূপে আইনবিভাগ) মুখ্য। আমাদের পোড়া দেশের আইনবিভাগ অকর্মণ্য, জনপ্রতিনিধিরা আইন প্রণয়নের চেয়ে তস্করবৃত্তিতেই অধিক আগ্রহী, এসব আমাদের দুর্ভাগ্য। এবং নিন্দুকে বলবে যে আমাদেরই কৃতকর্মের ফল (চোর জেনেও তাদের ভোট দিয়ে জেতাতে কে বলেছিল?)। কিন্তু সে জন্য গণতন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করা যায়না।

অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে যুক্তিটি আমি ব্যক্তিগত ভাবে, কোন কোন ক্ষেত্রে অনিচ্ছাসত্ত্বেও, মেনে নিই। মেনে নিয়েও কিন্তু দেখা করা যেতে পারে যে এ বিষয়ে সে যুক্তি কতখানি প্রযোজ্য। আমরা দু’টি প্রতিযুক্তির উপস্থাপনা করব। প্রথমত, ৩৭৭ ধারাটি স্বাধীন ভারতের সংসদের দ্বারা প্রণীত নয়। এর উৎপত্তি ১৮৬১ সালের ব্রিটিশ শাসিত ভারতে। অন্যান্য বহু ব্রিটিশ আবর্জনার মত এটিও আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। ভারতীয় সংবিধানের কোন অস্তিত্ব ছিলনা ১৮৬১ সালে। তখনকার কোন আইন সংবিধানবিরোধী কিনা, সেটা বিচার করা আইনবিভাগের কাজ বটে, কিন্তু একমাত্র আইনবিভাগেরই কাজ নয়। সে দায়িত্ব বিচারবিভাগের ওপরও বর্তায়। তাছাড়া নতুন বা পুরোন যে কোন আইনের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই করাটা আদালতের কর্তব্য। দিল্লী হাইকোর্টের রায়ের গায়ে তাই অতিসক্রিয়তার তকমাটি আঁটতে আমি দ্বিধাবোধ করছি। সুপ্রিম কোর্টও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ৩৭৭ ধারাটির হয়ত বদলের সময় এসে পড়েছে। তা সত্ত্বেও সে বদলের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সংসদের কাঁধে। কেন?

দ্বিতীয়ত, তাত্ত্বিকভাবে আইনবিভাগ গণতন্ত্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের প্রতিফলন। সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি কোন বিষয়ে বিরূপ মত পোষণ করেন, তবে সংসদ সেই বিষয়ের সপক্ষে আইন প্রণয়ন করবে, এটা আশা করা বাতুলতা। কারণ জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের পুনর্নির্বাচনের কথাও ভাবতে হয়। এটা গণতন্ত্রের বহু ত্রুটির অন্যতম, এবং এ ত্রুটি সব গণতন্ত্রী দেশেই বিদ্যমান। এ কথা স্বীকার করতেই হয় যে ভারতবর্ষে সমকামীতার সপক্ষে জনমত সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তা সে বুদ্ধিজীবিরা যাই বলুন। বরঞ্চ বিরুদ্ধ মতামতই অত্যন্ত প্রবল। তার প্রমাণ আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে আছে। ধর্মীয় সংগঠন, খাপ পঞ্চায়েত, সমাজের রক্ষণশীল অংশ, এদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। শিক্ষিত যুবসমাজের কাছে আমরা কিছুটা সংবেদনশীলতা আশা করতে পারি। কিন্তু সেই সংবেদনশীলতার নমুনা যেটুকু দেখতে পাচ্ছি চারিপাশে, তাতে খুব একটা ভরসার উদ্রেক হচ্ছেনা। ইন্টারনেটে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বহু প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রবন্ধের নিচে পাঠকের মন্তব্যগুলো (user comments) ভাল করে দেখলেই একটা বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে। প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণকারী মন্তব্যের সংখ্যা নগণ্য। অধিকাংশ মন্তব্যের মূল ভাব হচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্ট যা করেছে ঠিক করেছে। এই গে-লেসবিয়ানদের উচিৎ শিক্ষা হওয়া প্রয়োজন। অথবা, আমাদের দেশে সমস্যার কোন অভাব নেই। সেসবের জন্য চিন্তা না করে এই প্রান্তিক সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন যুক্তি নেই। ফেসবুকে বা টুইটারে যেহেতু প্রতি পোস্ট বা কমেন্টে নিজের নামটা জড়িয়ে থাকে, ‘প্রাচীনপন্থী’ বা ‘রক্ষণশীল’ তকমা লাগার ভয়ে কিছুটা সংযম অনুশীলন করা হয়। কিন্তু সংবাদ সাইটের প্রবন্ধে দিব্যি নাম-ধাম গোপন করেই মন্তব্য করা যায়। আসল রূপটাও বেরিয়ে আসে তখনই। এই যখন দেশের তথাকথিত শিক্ষিত যুবসমাজের অবস্থা, তখন সংসদ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আইন বদল করবে, এটা দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কী? একটা কথা বলে রাখা ভাল যে এই রক্ষণশীল মনোভাব শুধু ভারতবর্ষেই নয়, তথাকথিত প্রগতিশীল প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতেও জাঁকিয়ে বসে আছে। আমেরিকার মধ্য ও মধ্য-পশ্চিম ভাগে, যেটাকে বাইবেল বেল্ট বলা হয়, ‘গে-রাইটস’ উচ্চারণ করলে ফাঁসিতে চড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে দিক থেকে ভাবতে গেলে আমাদের যুবসমাজকে কিছুটা হয়ত ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে।

আইনবিভাগের কাছে যদি সুরাহা না পাওয়া যায়, তবে কী উপায়? গণতন্ত্রে যদিও জনগণই মুখ্য ভূমিকায়, তবু গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বেচ্ছাচার নয়। তাই তো আমাদের একটা সংবিধান আছে। সংবিধান প্রণেতারা এমন অনেক কিছুকে সেখানে স্থান দিয়েছিলেন যার সঙ্গে তৎকালীন সামাজিক মত বা ধ্যানধারণার বিরোধ ছিল। সেসব সংবিধানে স্থান পেয়েছিল কারণ সেগুলো সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ন্যায় অন্যায় বোধের ঊর্ধ্বে, মানবিকতার দৃষ্টিতে ন্যায়। আমাদের অশেষ সৌভাগ্য যে সেটা বুঝবার মত দূরদৃষ্টি এবং মানবিকতা সংবিধান প্রণেতাদের ছিল। সংসদ প্রণীত প্রত্যেকটি আইন (9th Schedule-এর কথা নাহয় এখন মুলতুবি থাক) সংবিধানসম্মত কিনা সেটা দেখা বিচারবিভাগের দায়িত্ব। সংবিধানসম্মত না হলে সে আইন রদ হয়। সংবিধানে কোন রদবদল আনতে হলে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়োজন। আর সংবিধানের মূল কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে গেলে Constituent Assembly গঠন আবশ্যক। এসব না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের চাপে সংখ্যালঘুর (শুধুমাত্র ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কথা বলছিনা এখানে) নাভিশ্বাস উঠত। তাই আজ যদি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত সমকামীতার বিরুদ্ধেও হয়ে থাকে, তাহলেও ৩৭৭ ধারা ক্ষেত্রবিশেষে মানুষের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার হরণ করে, এটা বলা কি শীর্ষ আদালতের পক্ষে খুব কঠিন ছিল? শাসনবিভাগ তো লিখিত ভাবেই জানিয়েছিল যে দিল্লী হাইকোর্টের রায় সম্বন্ধে সরকারের কোন আপত্তি নেই। এ নিয়ে এটর্নি জেনারেল জি ই বাহনাবতী সরকারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করে আলাদা বিবৃতিও দিয়েছিলেন খবরের কাগজে। তাহলে? তাহলেও কি দিল্লী হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলে সেটাকে বিচারবিভাগীয় অতিসক্রিয়তা বলা যেত?

এ বিষয়ে একটা ছোট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ২০০৮ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে একটি গণভোট হয়। সমকামীদের পরস্পরকে বিবাহ করার অধিকার আছে কিনা, বা সে বিবাহকে আইন স্বীকৃতি দেবে কিনা, এটাই ছিল ভোটের বিষয়। এটি প্রোপোজিশন ৮ নামে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়া আমেরিকার অন্যতম প্রগতিশীল অঙ্গরাজ্য, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভোটের ফলে এই নির্ণয় হয় যে সমকামীদের বিবাহের অধিকার নেই। ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু সে গণভোটের ফলকে নাকচ করে সেটা অসাংবিধানিক বলে। কোর্ট যুক্তি দেয় যে সংখ্যালঘুর অধিকার কখনো সংখ্যাগুরুর মতামত অনুযায়ী ঠিক করা যেতে পারেনা। এটাকে কি আমরা অতিসক্রিয়তা আখ্যা দিতে পারি?

শীর্ষ আদালতের একটি পর্যবেক্ষণে আমি মর্মাহত না হয়ে পারিনি। আদালত জানিয়েছেন যে দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় সাজাপ্রাপ্তির সংখ্যা গত একশো বছরে নগণ্য। তাই এটা একটা বড় সামাজিক সমস্যা সে কথা মানা যায় না। আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেও বলা যায় যে এ অতি আশ্চর্য যুক্তি! সংখ্যাটা এখানে বড় কথা নয়। যদি একটি মানুষেরও সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার খর্ব হয়, সেটার বিচার করা আদালতের কর্তব্য। তাছাড়া, কত মানুষের মাথার ওপর এই ৩৭৭ ধারার খাঁড়াটি ঝুলিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেল করা হয় বা ভয় দেখানো হয় বা বাসস্থান থেকে উৎখাত করা হয়, সে হিসাব কে রাখে? গুনতে বসলে কিন্তু সে সংখ্যাটা বোধহয় খুব নগণ্য হবেনা।

(চলবে)

Advertisements

2 thoughts on “রামধনু — ২

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s